বিগত ১০ বছরে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ৩৫১ জন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ আসে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন। এর মধ্যে গুরুদণ্ড পেয়েছেন ৪১ জন, লঘুদণ্ড পেয়েছেন ১৪০ জন। সবমিলিয়ে শাস্তি পেয়েছেন ১৮১ জন। আর ১৭০ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমকেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ অংশ নিয়ে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় জনপ্রশাসনমন্ত্রী জানান, সরকারি চাকরিতে অনুমোদিত পদ ১৯ লাখ ১৫১টি। এর মধ্যে শূন্য পদ রয়েছে তিন লাখ ৭০ হাজার ৪৪৭টি। এদিকে সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেড (আগের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি) কর্মচারী নিয়োগে কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। মন্ত্রী জানান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই কমিটি পিএসসির মাধ্যমে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের নিয়োগের সুপারিশ করেছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে তাদের সুপারিশ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন ফরহাদ হোসেন। বিসিএসে নারীরা পিছিয়ে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, সংবাদ এসেছে, তবে আপনারা যদি আমাদের পরিসংখ্যান দেখেন, বুঝতে পারবেন এ রকম কিছু হয়নি যে নারীরা পিছিয়ে যাচ্ছেন বরং নারীরা এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ৩৫তম বিসিএসে নারী কর্মকর্তা রয়েছেন ২৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ১০০ জনের মধ্যে নারী ২৮ জনের মতো। ৩৬তম বিসিএসে আমরা দেখেছি নারী কর্মকর্তা ২৬ দশমিক ২২ শতাংশ। ৩৭তম বিসিএসে দেখেছি ২৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ। ৩৮তম বিসিএসে ২৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। ৪০তম বিসিএসে দেখেছি নারীদের হার ২৬ দশমিক ০৩ শতাংশ। সবশেষ ৪১তম বিসিএসে ২৬ দশমিক ৭১ শতাংশ নারী প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন পদায়নের জন্য। ‘২৯তম বিশেষ বিসিএসে নারী ছিলেন ৪৬ দশমিক ৮১ শতাংশ। চিকিৎসক নিয়োগে ৪২তম বিশেষ বিসিএসে নারী ছিলেন ৪৯ দশমিক ০২ শতাংশ।’ মন্ত্রী বলেন, ১০ শতাংশ নারী কোটা বাতিলের পরও নারীরা আগের মতোই নিয়োগ পাচ্ছেন। এখানে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। ৪০তম বিসিএস থেকেই কিন্তু নারীদের কোনো কোটা নেই। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিসিএসে নারীদের পাওয়ার হার কমেনি। এই তথ্যটা (নিয়োগ পাওয়ার হার কমেছে) আসলে সঠিক নয়। প্রত্যেকটি বিসিএসের ২৬-২৭ শতাংশ নারী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে থাকেন। সেটি কিন্তু তারা ধরে রেখেছেন সেখানে কোনো ব্যত্যয় নেই। প্রশাসনে মন্ত্রণালয়-বিভাগের ৫৮ জন সচিবের মধ্যে ১১ জন নারী রয়েছেন জানিয়ে ফরহাদ হোসেন বলেন, নারীদের মধ্যে অতিরিক্ত সচিব রয়েছেন ৭৫ জন, যুগ্মসচিব রয়েছেন ১৬৪ জন, উপ-সচিব রয়েছেন ৩৯৪ জন, সিনিয়র সহকারী সচিব রয়েছেন ৬৫৮ জন। তিনি আরও বলেন, ৬৪ জেলার মধ্যে নারী জেলা প্রশাসক রয়েছেন ৭ জন, নারী ইউএনও ১৫১ জন, নারী বিভাগীয় কমিশনার রয়েছেন একজন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়েছেন ৮৮ জন। ক্যাডার সার্ভিস ছাড়াও সবমিলিয়ে সরকারি চাকরিতে ২৯ শতাংশ নারী রয়েছেন বলে জানান জনপ্রশাসন মন্ত্রী। বিএসআরএফ সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাবের সভাপতিত্বে সংলাপ সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

১০ বছরে শাস্তি ১৮১ সরকারি কর্মকর্তার, অব্যাহতি ১৭০ জনের : জনপ্রশাসনমন্ত্রী
- আপলোড সময় : ২৮-০৫-২০২৪ ১০:৩২:১১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-০৫-২০২৪ ১২:৪৮:৩৯ পূর্বাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ